পায়ু পথে ব্যথা

এনাল ফিশার বা মলদ্বার এ ব্যথা কেন হয়? এর প্রতিকার কি?


দীর্ঘ দিন কোষ্টকাঠিন্য থাকলে পায়খানার সময় পায়ুপথে ব্যথা হয় এবং পরে ছিলে গিয়ে রক্ত পড়তে পারে। সে সময় অনেকে পায়খানা করতে ভয় পায় যার ফলে কোষ্টকাঠিন্য বেড়ে যায়। আঁশ জাতীয় খাবার খেলে অবস্থার উন্নতি হতে পারে (কোষ্টকাঠিন্য এর পোস্ট দেখুন)। বড় বোল এ কুসুম গরম পানি রেখে তার উপর বসলে (পায়ু পথে হালকা গরম সেঁক) ব্যথা নিরাময় হতে পারে। ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী পায়খানার আগে মলদ্বারে চেতনা নাশক ওষুধ লাগানো যেতে পারে। অবস্থা জটিল হলে অবশ্যই ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে।

খুশকি

খুশকি কেন হয়?


মাথার ত্বক এর শুস্কতার জন্য খুশকি হয়। এ ছাড়া ছত্রাক এর আক্রমণ এর কারণেও খুশকি হতে পারে। চুল পরিষ্কার এর জন্য ভালো শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। গোসল এর আগে কুসুম গরম তেল দিয়ে মাথার তালু ম্যাসেজ করে শ্যাম্পু ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। বাজারে কিছু আন্টি ফাংগাল শ্যাম্পু পাওয়া যায়। সেগুলো সপ্তাহে দুইবার গোসল এর সময় ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোষ্ট কাঠিন্য

ইদানিং প্রায় সকল খাবার ই refined বা প্রক্রিয়াজাত করা। যেমন আগে আমরা লাল চাল, লাল আটা, লাল চিনি খেতাম; এগুলু কে সুস্বাদু করতে গিয়ে এখন সব কিছু থেকে আঁশ দূর করে খাদ্যগুন নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এর অনেক ক্ষতিকর দিকের একটি হলো কোষ্টকাঠিন্য। উল্লেখিত আঁশ জাতীয় খাবার ছাড়াও আপেল, বাদাম, সজনে, শীম, ব্রকোলি, ওটস, ইসুব গুল ইত্যাদি খেলে উপকার পাওয়া যাবে। পরিমিত পানি পান ও শরীর চর্চা করলে ও কোষ্টকাঠিন্য দূর হয়।

সবার জন্য শুভকামনা।

শুস্ক ত্বক

শুস্ক ত্বক এর প্রতিকার কি?


অনেকে ত্বকের শুস্কতার সমস্যায় ভুগেন। শীতের সময় শুস্কতার সমস্যা বেশি হয়। এ সময় চামড়া শুকিয়ে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি, চামড়া ফেটে যাওয়া, বিশেষ করে পায়ের গোড়ালি বা ঠোঁট ফেটে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এ সময় ফ্রেশ জুস, লেবু শরবত ও পরিমিত পানি খেতে হবে। শরীরে সরিষা তেল, বা অলিভ অয়েল বা ভালো লোশন ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। ভ্যাসেলিন মাখলে ও উপকার হয়। ভ্যাসেলিন ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে ও ব্যবহার করা যেতে পারে। শুস্কতা বেশি হলে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে।

সবার জন্য শুভকামনা।

রক্ত স্বল্পতা

রক্ত স্বল্পতা কেন হয়?


রক্তে হিমোগ্লোবিন এর পরিমান কমে গেলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। বিভিন্ন রোগ যেমন অপুষ্টি, পাইলস, ক্যান্সার এর কারণে রক্ত স্বল্পতা হয়। মহিলাদের মাসিক এর সময়, গর্ভ কালীন সময় এবং প্রসব কালীন সময় রক্ত স্বল্পতা হয়। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন কলিজা, কচু শাক, কলা, আপেল ইত্যাদি তে প্রচুর আয়রন থাকে। এ ছাড়া ডাক্তার এর পরামর্শে আয়রন ট্যাবলেট খেলে এ রোগ হতে পরিত্রান পাওয়া যায়।

সবার জন্য শুভকামনা।

মেজাজের তারতম্য

মুড সুইং বা মেজাজের তারতম্য কেন হয়?

প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের মাঝে মাঝে কারণ ছাড়াই মেজাজ খারাপ হয়। আপাত দৃষ্টি তে কারণ ছাড়া মনে হলেও এর একটি কারণ অবশ্যই আছে। ঋতুবতী সব মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে হরমোন এর তারতম্য হয় যার ফলে মেজাজের ও তারতম্য ঘটে। মাসিক এর সময় এটি বেশি হয়। এ সময় মেয়েদের বিরক্ত লাগা, মন খারাপ থাকা, ঘুম না আসা, ক্ষুধা মন্দা ইত্যাদি হতে পারে। মেয়েদের প্রতি এ সময় গুলো তে সদয় থাকুন। তার ভালো লাগা মন্দ লাগার সাথে মানিয়ে চলুন। সবার জন্য শুভকামনা।

ক্ষুধা মন্দা

বিভিন্ন রোগের পার্শপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্ষুধা মন্দা হতে পারে। ভিটামিন এর অভাব, খাওয়ার অনিয়ম, ঘুমানোর অনিয়ম এর কারণে ও ক্ষুধা মন্দা হতে পারে। জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন গরু বা খাসির মাংস, বাদাম ইত্যাদি খেলে ক্ষুধা মন্দা দূর হয়। প্রতিদিন ১ টি করে জিঙ্ক ট্যাবলেট ১০ দিন খেলে ও উপকার পাওয়া যেতে পারে।

সবার জন্য শুভকামনা।

ঘুমের অভাব

ইনসোমনিয়া বা ঘুমের অভাব


পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। ছোটদের জন্য কমপক্ষে ৯-১১ ঘন্টা ও বড়দের জন্য কমপক্ষে ৭-৮ ঘুম অত্যাবশক। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এমনকি অসুস্থতা দেখা যেতে পারে। মানসিক অস্থিরতা ইনসমনিয়ার একটি প্রধান কারণ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীর চর্চা ও মানসিক প্রশান্তি ইনসোমনিয়া দূর করতে সহায়ক। মনে রাখবেন চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সবার জন্য শুভকামনা।

চুল পড়া

কেন চুল পরে?


ছোট বড় সকলের ই চুল পড়তে পারে। মহিলাদের বয়োসন্ধি থেকে মাতৃত্ব কাল এবং মাতৃত্ব পরবর্তী কালে হরমোন এর তারতম্য হয়। এ কারণেও চুল পড়তে পারে। দিনে ১০০ থেকে ১১০ টি চুল পড়া স্বাভাবিক। পুষ্টিকর খাবার বিশেষ করে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, চুলের প্রকৃতি অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতিতে সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার এবং মাথার ত্বকের যত্ন নিলে চুল কম পড়ে এবং চুল সুস্থ থাকে।

মাথার চুল কমতে থাকলে আপনি prp করতে পারেন। prp করলে আপনার চুল পরা কমে যাবে। কিন্তু prp তে চুল গজায় না। prp এর পাশাপাশি আপনি ভিটামিন বি এর টেবলেট খেতে পারেন। coffe তে caffene থাকে যা চুল পরা কমায়। আপনি কফি খেতে পারেন। আবার কিছু কিছু shampoo তে caffene থাকে। সেই সব shmapoo ব্যাবহার করতে পারেন। খুশকি থেকে অনেক সময় চুল পরে। তাই মাথার ত্বকে যেনো খুশকি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

অনেক সময় বংশগত কারনে চুল পরে যায়। সেক্ষেত্রে আপনার করার কিছুই থাকে না। তখন আপনি hair transplant করতে পারেন। বাংলাদেশে বর্তমানে ভালো hair transplant হয়। hair transplant এর পর prp করলে সেই চুল আর পরে না।

আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

মাথা ব্যথা

মাথা ব্যথা কোন কোন কারণে হয়?


মনে রাখতে হবে যে মাথা ব্যথা হচ্ছে একটি রোগের বহিঃপ্রকাশ। সাধারণত সাইনাস, মাইগ্রেন ইত্যাদির কারণে মাথা ব্যথা হয়। যদিও সাধারণ ব্যথা নাশক ওষুধ খেলে মাথা ব্যথা ভালো হয়ে যায়, তবে মাথা ব্যথার প্রকৃত কারণ জানা অত্যন্ত জরুরি। দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে ও মাথা ব্যথা হতে পারে তাই ব্যথা সহসা ভালো না হলে চিকিৎসক এর পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তী পোস্ট এ আমরা সাইনাস ও মাইগ্রেন নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাল্লাহ।

সবার জন্য শুভকামনা।